মার্চ ২০১৪

বিশ্বসেরা আদর্শ বালক

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ


নিত্য দিনরাতের হয় আনাগোনা। বনের সুরভি ফুলে মুখরিত হয় চিত্ত আল্পনা। আঁধার লুকোয়, আলোর আগমন ঘটে। ফুল ফোটে। নদী উদ্বেলিত হয় প্রবহমান স্রোতে; হৃদয় আকৃষ্ট হয় তার মনোমুগ্ধকর কলকল প্রতিধ্বনিতে। পাখি গান করে। পর্বত চিরে ঝরনা ঝরে। চিত্রক প্রকৃতির চিত্র আঁকে। কবি রচনা করে কবিতাÑএ সবই হলো পৃথিবীর নিয়মিত বিধান। আর এ বিধান থেকেই আমরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে শিখছি। তাইতো অবলীলায় কবির ভাষায় বলতে পারি, পৃথিবীটা হলো শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার এ ধারায়ই কোনো মহামনীষীর উত্তম আদর্শ অনুসরণ করে মানুষ হতে পারে আদর্শবান, আপন জীবন গড়তে পারে উজ্জ্বলময় এক অতুলনীয় জীবনে, বাল্যে হতে পারে একজন সেরাদশ আদর্শ বালক, আর নৈতিকতায় এক গরিষ্ঠ নৈতিক, কর্মজীবনে পদার্পণ করে হতে পারে সমাজের যোগ্যনেতা এবং শিষ্টাচারে আদর্শ শিষ্টাচারক।

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

মুফতি আমিনী- ভাঙা ভাঙা স্বরে সোনা ঝরানো কথা আর শুনবো না!

-ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী


এক.
মুফতি ফজলুল হক আমিনী। এখন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
বুঝি নি, এতো তাড়াতাড়ি ..
এতো অসময়ে ..
এতো দুঃসময়ে হঠাৎ করে তিনি চলে যাবেন! সেদিন রাতে এতোটা ঘুম-কাতুরে না হলেও পারতাম! গভীর রাতে অনেক ফোন এসেছে, ধরতে পারি নি! সময় মতো তাঁর মৃত্যু সংবাদটা জানতে পারি নি! ফজরে উঠে দেখি; অনেক মিসকল। সাথে একটা মোবাইলবার্তাÑ মুফতি আমিনী আর নেই! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!! শোক-বিহ্বলতায় আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম! শোকস্তব্ধ এতিমের মতো হাহাকার করতে লাগলো এতিম মনটা!
তাঁকে এভাবে হঠাৎ করে হারানোর শোক অনেক বড় শোক! কেননা,
এ শোক প্রিয় উস্তায হারানোর শোক!

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

তার স্নেহমাখা সান্নিধ্যে

তামীম রায়হান

মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এটুকু ক্ষুদ্রতা ও অপারগতা আছে বলেই তো আমরা মানুষ। আমার অসংখ্য সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যর্থতার একটি হল- খুব প্রিয় মানুষদের দিয়ে আমি গুছিয়ে কিছুই লিখতে পারি না। এ আমার অক্ষমতা এবং এটি স্বীকারে কোন কার্পণ্য নেই। 
জীবনে যে কয়জন মানুষের সান্নিধ্যে নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান ভেবে পুলকিত হয়েছি, আমার প্রিয়তম উসতায এবং দিকনির্দেশক হযরত আল্লামা মুফতী আমিনী রহ, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। আমার তারুণ্যের সূচনায় আমি তার সাহচর্য পেয়েছি, মানুষ হওয়ার দীক্ষা নিয়েছি তার হাতেই। খুব কাছ থেকে তার ব্যক্তিত্বের বর্ণিল আলোয় নিজের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে খুঁজে পেয়েছি। এ মহান ব্যক্তিত্বের সাথে আমার স্মৃতিগুলো গুছিয়ে লিখতে গেলে তা বিশাল কলেবর হয়ে যাবে। 

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

মুফতী আমিনী রহ. পরমপ্রিয় উস্তাদরুহানী পিতা;
কিছু কথা কিছু টুকরো স্মৃতি

-আনছারুল হক ইমরান

আমি এমন একজন মহান ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কলম ধরলাম। যার বিয়োগ ব্যাথায় কেঁদেছিল আকাশ, কেঁদেছিল দেশ-বিদেশের লাখো-কোটি মানুষ। যিনি আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন ইসলাম ও দেশদ্রোহী সকল বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে। ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি ছিলেন অতন্ত্র প্রহরী। অস্ত্র ছিল তার ‘‘নারায়ে তাকবীরের স্লে­াগান, শেষ রাতে আপন প্রভুর দরবারে কান্নাকাটি।’’ তিনি আমার রুহানী পিতা, পরমপ্রিয় উস্তাদ, অন্ধকারে আলোর দিশারী, ধৈর্যের বাতিঘর, নিমোর্হের উজ্জল দৃষ্টান্ত আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.। (আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

মুফতী আমিনী (রহ.)ঃ এক জীবন্ত ইতিহাস

মুফতী ফয়জুল্লাহ


তিনি চলে গেলেন। গেছেন না ফেরার দেশে। তিনি হাসতে হাসতে গেলেন। কাঁদলো জগৎবাসী। অঝোর ধারায় কেঁদে উঠলো আকাশ। সেদিন আকাশ এভাবে কেঁদে উঠবে এর পূর্বাভাস ছিল না। কিন্তু কাঁদলো, কাঁদলো একই সাথে বাংলাদেশের উপরে ছাদ হয়ে থাকা পুরো আকাশ। কাঁদলো অজস্র মানুষ। কারও গাল বেয়ে পড়ছে অশ্র। কারও বুকফাটা আর্তনাদ। কেউ ডুকরে কেঁদে উঠছে। কেউ কেঁদে চলেছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। সারা দেশ যেন শোকে কাতর। আপনহারা শোকের বেদনায় যেন সারা দেশের মানুষ অন্যরকম এক কাতরতায় মুহ্যমান। একটি রূহের তিরোধানে অকস্মাৎ শূন্য হয়ে গেল অনেকগুলো আসন। কারণ, তিনি ছিলেন একাধারে একজন খ্যাতিমান হক্কানী আলেমছিলেন শায়খুল হাদীস। ছিলেন দেশবিখ্যাত মুফতী। ছিলেন একজন আপাদমস্তক আবেদ। ছিলেন মুত্তাকী। ছিলেন নির্লোভ। ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াত। ছিলেন রুহবানুল  লাইল-ফুরসানুন নাহার। ছিলেন লেখক। ছিলেন সময়ের শ্রেষ্ঠ বক্তা। ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণ রাজনীতিক। ছিলেন  ঐতিহাসিক। ছিলেন কিতাবের পোকা।

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

মুফতী আমিনী : আস্থা ও দ্রোহের মিনার

শরীফ মুহাম্মদ

তিনি হঠাত্ করেই চলে গেলেন। হ্যাঁ, সবাইকে হতবুদ্ধি, নির্বাক ও শোকবিদ্ধ করে চলে গেলেন। যেন ঘরবাড়ি-ময়দান শূন্য করেই চলে গেলেন? ঝড়ের রাতে জাহাজ থেকে নাবিক নেমে গেলে যেমন হয়, গহীন অরণ্যে কাফেলা প্রধান নিখোঁজ হয়ে গেলে যেমন হয় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম সমাজের অবস্থা তার চলে যাওয়ায় তেমনই হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

মুফতী আমিনী রহ. স্মরণ সংখ্যা-২০১৩

যে বার্তা রেখে গেলেন মুফতী আমিনী

উবায়দুর রহমান খান নদভী

জীবন যেভাবে যাপন করবে মৃত্যুও তোমাদের সেভাবেই হবে। যেভাবে মৃত্যুবরণ করবে শেষ বিচারের দিন সে অবস্থায়ই উঠবে। জীবন- মৃত্যুর ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে এমন একটা ইশারা রয়েছে। মুফতী মাওলানা ফজলুল হক আমিনী ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিনভর তার স্বাভাবিক কাজকর্ম করেছেন। ইবাদত-বন্দেগী, খাওয়া দাওয়া, শিক্ষকতা ও ইমামতিসহ সংগঠন, রাজনীতি, বৈঠক, বিবৃতিদান সবই করেছেন। রাতের মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত লালবাগের ছাত্রদের বোখারী শরীফ পাঠদান করেছেন। একবার বলেছিলেন শরীর খারাপ লাগছে। ১১টার দিকে বেশি খারাপ লাগায় হাসপাতালে যান। সেখানেই রাত সোয়া বারটার দিকে তার ইন্তেকাল হয়। তারিখটা পড়ে যায় ১২ ডিসেম্বর। বহুল আলোচিত ১২-১২-১২ তারিখ মুফতী আমিনী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

বক্তৃতা

কুরআন এবং হাদিসে রাসুল হলো বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সাহিত্য

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন


আমার বলবার কথা যতোটুকু এখানে সেটা হলো, আমরা এ ধারায় একেবারে নতুন নয়। আশির দশকে এসে বা নব্বই দশকে এসে আমরাই নতুন করে শুরু করেছি এমন না। বরং কাজ অনেক পিছন থেকে চলে আসছে। মেশকাত শরিফের তরজমা করেছেন মাওলানা নুর মুহাম্মদ আযমী। ভুমিকায় লিখেছেন হাদিসশাস্ত্র সম্পর্কে। হাদিসের তথ্য-ইতিহাস এনেছেন। অথচ ঠিক এমন সময় ইউনিভার্সিটির কোনো একজন প্রফেসরের পক্ষে খুব সহজ ছিলো না খুব সহজেই কোনো গ্রন্থ রচনা করবেন। সুতরাং যে সময়টাতে করেছেন সে সময়টাকেও দেখবার প্রয়োজন আছে। কতোটা তথ্য-উপাথ্য তখন সংগ্রহ করা যেতো। আমি এ কারণেই বলি, অনেক সময় আমরা তারুণ্যের উত্তাপে আমাদের পূর্বসুরীদের নাকচ করে দিই। এটা ভালো নয়, সঠিক নয়, সম্ভ্রান্ত সন্তানের পরিচয় নয়।

বাতিঘর

মহান পুরুষ আল্লামা আতহার আলী রহ.

যুবায়ের আহমাদ


একটি জাতির পরিবর্তনের জন্য দরকার একজন নেতা। মুসা আ. বনি ইসরাঈলে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, ইবরাহিম আ. নমরূদের মসনদে আঘাত হেনে আল্লাহর বড়ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তেমনি একজন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ব মানবতার ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় মুহাম্মদ বিন কাসিম তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে এই উপমহাদেশের মানুষকে আত্মিক মুক্তির সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। একজন তিতুমীরের ডাকে বাংলার নিপীড়িত মজলুম জনতা ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলো।

মাসিক নবধ্বনি, মে সংখ্যা, ২০১৩


আলোকিত তরুণের আলোয় কিছুক্ষণ

সাময়িক নাম-যশের দিকে না তাকিয়ে নিরব সাধনা চালিয়ে গেলে সুযোগ এসে ধরা দেবে- 

আলী হাসান তৈয়ব

বর্তমান সময়ে যে কজন সম্ভাবনাময় তরুণ নিজের স্বকীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নিবিষ্টমনে লেখালেখি করে চলেছেন- তাদের মধ্যে অন্যতম একজন আলী হাসান তৈয়ব। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলো থেকে নিয়ে গ্রাম-মফস্বলের ছোট কাগজেও তার উজ্জল বিচরণ পাঠককে মোহিত করে রেখেছে। ১৯৮২ সালের ৩১ ডিসেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী এ প্রতিভাবান তরুণের বাবার নাম তৈয়ব আলী পাইকার। তার মায়ের নাম আলেয়া বেগম।
২০০৫ সালে বেফাকুল মাদারিস থেকে তাকমীল বিভাগে ১ম বিভাগ প্রাপ্ত আলী হাসান তৈয়ব তার সর্বশেষ পড়াশোনা করেছেন মাদরাসা দারুর রাশাদে সাহিত্য ও সাংবাদিকতা বিষয়ে।
ছোটবেলা থেকেই মাদরাসার গন্ডি পেরিয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন নিজের সম্ভাবনা ও প্রতিভার কথা। নাহবেমীর পড়ার সময় কৈশোর বয়সেই বগুড়ার স্থানীয় দৈনিক সাতমাথায় তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। কৈশোরে খুব বড় মাপের একজন মুফতি হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও ভাগ্যের বাহন তাকে নিয়ে এসেছে আজকের জায়গায়। দিনরাত বিরামহীন তিনি লিখে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের ইসলামী ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার অবিরাম সাধনা আজ অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়।